বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি — monthly briefing
এপ্রিল-মে ২০২৬: মাসিক সংবাদ সারসংক্ষেপ
গত ৩০ দিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত পরিবর্তনের ধারা পরিলক্ষিত হয়েছে। নিচে প্রধান প্রবণতা ও ঘটনাবলির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
১. ডিজিটাল নজরদারি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সংকোচন: সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবন ও চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ: 'স্মার্ট ড্রিম ডিটেক্টর'-এর মাধ্যমে নাগরিকদের ঘুমের ভেতরের চিন্তাধারা পর্যবেক্ষণ এবং সরকারবিরোধী অনুভূতির জন্য জরিমানার বিধান।
- ডিজিটাল মৌনতা ফি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের প্রশংসা করতে দেরি হলে বা নীরব থাকলে 'দেশপ্রেমের ঘাটতি' হিসেবে কর আরোপ।
- শ্বাস-প্রশ্বাস ও প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘশ্বাসের ওপর কার্বন ট্যাক্স এবং প্রতিবাদী মিছিলের জন্য সরকারি পোর্টালে ডিজিটাল অনুমতির বাধ্যবাধকতা।
২. গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার যান্ত্রিকীকরণ: নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি ও এআই-নির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে:
- এআই-ভিত্তিক ভোটাধিকার: মানুষের ভোট দেওয়ার পরিবর্তে এআই দ্বারা ফলাফল নির্ধারণ এবং রোবট প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ।
- জনপ্রিয়তাভিত্তিক নির্বাচন: প্রার্থীর যোগ্যতার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার ও লাইক-শেয়ারের ভিত্তিতে জয়ী ঘোষণার প্রস্তাবনা।
৩. অর্থনৈতিক সংকট ও বিলাসিতা: দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল চরম বৈপরীত্যপূর্ণ:
- ভার্চুয়াল সমাধান: ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য 'ভার্চুয়াল ডিনার' অ্যাপের মাধ্যমে ছবি দেখে পেট ভরানোর পরামর্শ।
- বিলাসী ব্যয়: জ্বালানি ও খাদ্য সংকটের মধ্যে ৩৫০ বিলিয়ন টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা:
- শিক্ষা ও প্রশাসন: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংস্কারের পরিবর্তে পুনরায় দলীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক জমিদারতন্ত্র কায়েম।
- ইতিহাস বিসর্জন: রাজনৈতিক মারামারি এড়ানোর অজুহাতে রাস্তার নাম পরিবর্তন করে সংখ্যায় রূপান্তর এবং জাতীয় দিবস পালনে অস্পষ্টতা ও ইতিহাস মুছে ফেলার প্রবণতা।
- দুর্নীতি ও নৈতিকতা: দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ রোধে কেবল 'নৈতিকতা কোর্স' চালুর মতো লোক দেখানো পদক্ষেপ গ্রহণ।
সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ: গত এক মাসে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি পদক্ষেপে 'স্মার্ট' ও 'ডিজিটাল' শব্দগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাগরিক অধিকার খর্ব করার প্রবণতা তীব্র হয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্দশা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিপরীতে সরকার প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অদ্ভুত সব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনজীবনকে এক ধরনের ডিজিটাল কারাগারে বন্দি করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই সময়কালটি মূলত রাষ্ট্রীয় স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা এবং প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের এক চরম সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।